ভূপেন হাজারিকা জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

সৌজন্যে- সত্যজিত চ্যাটার্জী

এই সেই দেশ এখনও এখানে
উঠে আযানের ধ্বনি,
গীতা বাইবেল ত্রিপিটক আর
শোনা যায় রামায়নী।

-ভূপেন হাজারিকা

ভূপেন যখন বি এ পড়ছেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে, তখনই তার সবচেয়ে ছোট ভাইটির জন্ম হল। ভূপেন সব থেকে বড়। তাঁর পরে আরও ন’টি সন্তানের জন্ম দিলেন বাবা। বাড়িতে তেমন সচ্ছলতা নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনে দেওয়াটাও একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই অবস্থাতেও বাবার কাণ্ডজ্ঞানহীনতার জন্য জন্ম হচ্ছে একের পর এক ভাইবোনের। সবচেয়ে ছোটটির জন্মের খবর পেয়েই বেনারস থেকে বাড়ি এলেন ভূপেন। এসেই সরাসরি বাবাকে বললেন, বয়সের কথা যদি নাও ভাবেন, অন্তত সংসারের অবস্থার কথাটা ভেবে এবার আপনার থামা দরকার!

ছেলের এই উপদেশ বাবার মোটেই পছন্দ হল না, সেটা বুঝিয়ে দিতেই ছেলের গালে বসিয়ে দিলেন এক চড়। ভূপেন বাবার হাতে চড় খেয়ে ঘর ছাড়লেন না, উল্টে ভাইবোনদের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। এতে একটা জিনিস হল, ভূপেনের এগারোতম ভাই বা বোনের জন্ম দিতে বাবা আর সাহস করলেন না।

ছোটবেলায়, বলতে গেলে শৈশবেই মায়ের দুধের সাথে পান করেছিলেন তিনি লোকগানের সুর। ব্যাপারটা ঘটেছিল এরকম ভাবে…
শৈশবে ভূপেন সবে চলতে শিখেছেন, কিন্তু মায়ের দুধ খাওয়া ছাড়েননি তখনো । এরকম একটা বয়সে একদিন কোথাও খুৃজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁকে, সারারাত খোঁজা হল তবুও পাওয়া গেল না। সকালে আদিবাসী মহিলারা মায়ের কোলে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন হাসতে হাসতে। বলে গেলেন, তাঁদের আদরের ছেলেটি কোন ফাঁকে ঘর থেকে খানিক হেৃটে হামাগুড়ি দিয়ে আদিবাসী পাড়ায় চলে গিয়েছিল। তাঁকে দেখে আদিবাসী মায়েদের খুব ভাল লেগেছিল, বুকে আগলে রেখে ছিল সারা রাত। এই সারাটারাত সেই মায়েদের বুকের দুধ খেয়েছেন ভূপেন, আর হাঁ করে শুনেছেন তাঁদের লোকগানের সুর। এভাবেই মায়ের দুধের সাথে সংগীত তাঁর রক্তে এসে মিশেছে।

পাঁচ বছর বয়স থেকেই গান শিখেছেন ওস্তাদজীর কাছ থেকে। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময়ই প্রথম সুর দিলেন গানে। বাবার লেখা গান। তাতে বসালেন অহমীয়া লোকগানের সুর। তারপর ১৯৩৫ এ এসে বছর এগারোর ভূপেন ‘জয়মতী’ ছবির মধ্য দিয়ে প্রথম ছায়াছবিতে গান গাইলেন। এভাবেই শুরু হয়েছিল তাঁর বর্ণময় জীবনের জয়যাত্রা।

পরবর্তীকালে আমেরিকার নিগ্রো লোকগানের প্রতি তাঁর একটা দুর্বলতা তৈরি হয়। পল রোবসনের গানে যে জনজাগরণের আহ্বান আছে তার উদ্দীপনায় ও অনুপ্রেরণায় অনেক গান তিনি তৈরি করেছেন। তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি ‘আরোপ’। এই ছবির ‘ নেয়নোঁ মে দরপণ হ্যায়’ – একটি বিখ্যাত গান। এ গানটির সুর তিনি পেয়েছিলেন শিলং- এ বেড়াতে গিয়ে। এক খাসি রাখাল গুন গুন করে সুর ভাঁজছিল, সেই সুর তাঁর এত ভালো লেগে গেল যে, তাই দিয়েই বানিয়ে ফেললেন তাঁর প্রথম সর্ব ভারতীয় ছবির গান। গানটি শুধু বানালেনই না, তাই দিয়ে মাতিয়ে দিলেন শ্রোতাদের। এভাবেই শুধু অহমীয়া লোক গান নয়, সারা পৃথিবীর লোক গান তাঁর সংগীতের মধ্যে সম্পৃক্ত করে নিয়েছিলেন তিনি। তাই তাঁর গানে পাওয়া যায় একই সঙ্গে সমগ্র পৃথিবীর মাটির সুর। তাই তিনি প্রাদেশিক হয়েও সার্বজনীন।

‘দীর্ঘদিন বাংলায় বসবাস করার ফলে বাংলার প্রতি ওর মমত্ববোধ স্বাভাবিকভাবেই গড়ে উঠেছে। কিন্তু অসমের প্রতি বিশেষতঃ সেখানকার মানুষদের প্রতি ওর আকর্ষণ কোনোদিন তো কমেনি, বরং উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। তবে আমার মতে, ভূপেনের কোনো সীমারেখা নেই। সে আজ শুধু বাংলা বা শুধু অসমের, এমনকি সারা ভারতবর্ষেরও না, সারা পৃথিবীর।’

-কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

‘জয় জয় নবজাত বাংলাদেশ,/ জয় জয় মুক্তিবাহিনী / ভারতীয় সৈন্যের সাথে রচিলে / মৈত্রীর কাহিনী।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে এই গানটি গেয়েছিলেন মানবতার কণ্ঠস্বর ভূপেন হাজারিকা।

 একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালে  আমাদের সমর্থনেই দাঁড়িয়েছিলেন। ভূপেন হাজারিকা কেবল মানুষকে ভালবাসতেন তাই নয়, সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে মানুষ হত্যার প্রচন্ড বিরোধী ছিলেন। তাঁর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা কোনোদিন আশ্রয় করতে পারেনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন বিভক্ত হয়ে গেলে তাঁর এতদিনের আদর্শিক বিশ্বাসে খানিকটা টান পড়ে। কিন্তু মন মানসিকতায় তিনি আদর্শিক পথ ছেড়ে যাননি। কিন্তু ক’বছর আগে আকস্মিকভাবে তাঁকে দেখলাম তিনি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নামের রাজনৈতিক দলে যোগদান করেন। এটা কেন করেছিলেন তা আমরা বলতে না পারলেও তিনি সুধীসমাজে প্রবলভাবে সমালোচিতও হয়েছিলেন। কিছুদিন পরে, যতদূর মনে পড়ে তিনি সেখানে আর থাকেন নি। এই সময় খানিকটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তা কেটে যায়।

কবি গীতিকার গণশিল্পী ভূপেন হাজারিকা মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের ছবি ‘সীমানা পেরিয়ে’তে সঙ্গীতকার শেখ সাদী খান যখন আবহ সঙ্গীতের কাজ করছিলেন কলকাতায়, তখন তাঁর অবিস্মরণীয় পরামর্শের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। তিনি তো এ বাংলায় এসেছেন বহুবার। ভূপেন হাজারিকা ‘চামেলি মেমসাহেব’ নামের বানীচিত্রের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার পেয়েছিলেন।

তিনি শোষিতের চিত্র এঁকেছেন; তুলে ধরেছেন শোষণ-বঞ্চনার করুণ চিত্র---

'‘হায় মোর ছেলেটি উলঙ্গ শরীরে/ একটু জামা নেই খোলা’।''

কেবল শাসনযন্ত্রের সঙ্গে জনমানুষের দ্বন্দ্ব নয়, সমাজের সব রকম বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমান সোচ্চার ছিলেন তিনি। প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সবাই যখন রোমান্টিকতায় মগ্ন, তিনি তখন আত্মদৈন্যে ভুগেছেন সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়াতে পারার কষ্টে----

'‘শিশিরে ভেজানো রাতে/বস্ত্রহীন কোনো ক্ষেতমজুরের/ভেঙে পড়া কুটিরের ধিকিধিকি জ্বলে থাকা/তুষে ঢাকা আগুনের রক্তিম যেন এক উত্তাপ হই’।''

বর্ণবাদের প্রতি কটাক্ষ করে গেয়েছেন---

‘'আমায় একজন সাদা মানুষ দাও, যার রক্ত সাদা/ আমায় একজন কালো মানুষ দাও, যার রক্ত কালো/ যদি দিতে পারো, প্রতিদান যা কিছু চাও হোক অমূল্য, পেতেই পারো’’।

তাঁর দার্শনিক গুরু ও বন্ধু ছিলেন প্রখ্যাত সঙ্গীতকার হেমাঙ্গ বিশ্বাস। তিনি জীবনের মধ্যগগনে যখন, তখন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত হয়েছিলেন। ভারতে যখন গণনাট্য সংঘ প্রবল প্রতাপে সাধারণ মানুষকে সংঘবদ্ধ করছে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে, সেই স্বাধীনতার লড়াইয়ে যুবক ভূপেনও সামিল হয়েছিলেন তাঁর গান ও লেখার মাধ্যমে। সারা জীবন বাম রাজনীতির অনুসারী হিসেবে দুনিয়ার মুক্তি সংগ্রামী মানুষের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল।

এই শিল্পীই মানুষ ও মানবতার কথা বলার জন্য জেল খেটেছেন; কিন্তু পিছপা হননি। গেয়েছিলেন শতাব্দীর অবিস্মরণীয় কালজয়ী সেই গান- 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না।' মানুষের প্রতি কতখানি গভীর দরদ থাকলে একজন শিল্পী এমন গান গাইতে পারেন! কেবল তা-ই নয়, সব গানেই আমজনতার কথা তুলে ধরার জন্য তার গানের মধ্যে জনগণ বারবার নিজেদের খুঁজে পেত।

 হিন্দু ধর্মের তীর্থ পবিত্র নদী গঙ্গার কাছে তিনি ফরিয়াদ জানিয়েছিলেন, প্রশ্ন রেখেছিলেন গানের ভাষায়, 'বিস্তীর্ণ দু-পাড়ে অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে-নীরবে ও গঙ্গা তুমি ও গঙ্গা বইছো কেন।' মানুষ আর জীবনের শিল্পী স্পস্ট প্রশ্ন রেখেছেন, দুই পাড়ের অসংখ্য নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের কষ্টের জীবনযাত্রা দেখেও কেন গঙ্গার প্রতিক্রিয়া হয় না, কেন সে শুধুই বয়ে চলে? এই বিশ্বায়নের যুগে, যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে সহানুভূতি হারিয়ে প্রায় যন্ত্র হয়ে ওঠা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন 'মানুষ মানুষের জন্য' গানটি গেয়ে।

কেমন অসাম্প্রদায়িক গণচেতনার শিল্পী হলে গাইতে পারেনথ 'গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা, ও আমার দুই চোখে দুই জলের ধারা, মেঘনা যমুনা।' শুধু তাই নয়, নিপীড়িত মানুষের সপক্ষে তিনি শরৎ বাবুকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন তার মহেশ, গফুর কোথায় কেমন আছে।

আত্মজীবনীতে ভূপেন হাজারিকা লিখেছেন, ‘একদিন হাঠাৎ শুনলাম, পল রবসন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন। সম্প্রতি তাঁকে নিগৃহীত করা হয়েছে। প্রায় সম্পূর্ণ আমেরিকাই তাঁকে বয়কট করেছে। হলিউড থেকে তাঁকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। স্টেজেও তাঁকে বয়কট করেছে। কোথাও তাঁকে গান করতে দেয়া হবে না। রেকর্ডিং কোম্পানীগুলি তাঁর গান রেকর্ড করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোলকাতায় যেমন পাড়ার ছেলেরা স্বরবতী পূজো করে সেইভাবে মঞ্চ করা হয়েছে। আমরা সবাই বসে আছি একেবারে রাস্তায়। এ কথা আজ অনস্বীকার্য যে, পল বরসনের প্রভাব আমার জীবনে বিশেষভাবে পড়েছে। আমেরিকার যত নামকরা কাগজ আছে তার ছেঁড়া কাগজের ফালি দিয়ে সামনে একটা স্কীনবোর্ড তৈরি করা হয়েছে। পল ছ’ফুটের বেশি লম্বা। কোনো গ্রীনরুম নেই। নির্ধারিত সময়ে এলেন তিনি। পুরো কালো নয়। চকোলেট ব্রাউন গায়ের রং।… সঙ্গে সঙ্গে শুনতে পেলাম উদাত্ত কণ্ঠের আহবান, ‘ওল ম্যান রিভার, ইউ ডোন্ট নাথিন্ । ইউ জাস্ট কিপ রোলিং রোলিং।’ লোকগীতি। তিনটে অন্তরা আছে।… সঙ্গে শুধু একটা গীটার রয়েছে। খুব যে একটা ব্যাকরণ মেনে গান করেন তাও নয়। মনে পড়ে গেলে, ক্লাস সিক্স এ পড়ার সময় প্রথম যখন গান করি তখন আমিও তো দাঁড়িয়ে গান করেছি। অসাধারণ লাগলো পল রবসনের সঙ্গীত পরিবেশনা রীতি। আমি পাগলের মতো হয়ে গেলাম। দেখা করলাম তাঁর সঙ্গে। বললাম, আমি কিন্তু মাঝে মাঝে আপনাকে এসে বিরক্ত করবো। বললেন, নিশ্চয়ই আসবেন। ওখান থেকে ফিরে এসে বন্ধুদের বললাম, সার্থক হয়ে গেল আমেরিকা দর্শন।’

১০ বছর বয়সেই গান গাইতে শুরু করেছিলেন। তারপর কোনোদিন তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিলেন ভারতে, বাংলাদেশে, পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র। সংস্কৃতি জগতের এক বিস্ময়কর প্রতিভা এই অহমিয়া শিল্পী তাইতো গেয়েছিলেন ‘আমি এক যাযাবর’, ‘দোলা হে দোলা’, ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘সাগর সঙ্গমে’, ‘প্রতিধ্বনি শুনি’র মতো জনপ্রিয় গান।

শিল্পী তাঁর ছাত্রজীবনেও ছিলেন খ্যাতিমান। ১৯৪৬ সালে বেনারসে হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। পিএইচডি করতে যান যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ১৯৫২ সালে।

ভূপেন হাজারিকা চলচ্চিত্রে অমূল্য অবদানের জন্য দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি আগেই ‘অসম রত্ন’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। সঙ্গীত নাটক একাডেমি তাঁকে সম্মানিত করেছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদানের জন্য। শিল্পীকে কতবড় সম্মান দিয়েছিল দেশমাতা, তারই প্রমাণ হলো আসাম রাজ্যের রাজধানী গৌহাটি শহরে ভূপেন হাজারিকার ভাষ্কর্য স্থাপন। ২০০৯ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন তিনি নিজেই করেছিলেন।

নিজের ঘর ভুলে আজীবন মানুষের জন্য , মানবতার জন্য ভালবাসা কণ্ঠে ফেরি করে বেড়িয়েছেন এই যাযাবর ।

এই  কীর্তিমানের জন্ম দিনে নত মাথায় রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

কবির সুমন বলেছিলেন

মেঘ ভেঙে দেয়া রোদ্দুর এসে
আমার দুপুর বড় ভালোবেসে
জল চিকমিক কলকের ফুলে
ময়নার শিস যেত হেলে দুলে
এখন সন্ধ্যে নদীতে উজান
ওপারে ভূপেন হাজারিকা গান ।।

Post a Comment

0 Comments